
ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগ নেতা আতিকুল ইসলাম হৃদয়ের ওপর হামলার ১৫ দিনেও কোন গ্রেপ্তার নেই। ঢাকায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে হৃদয়। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তার পরিবার ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা।
ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঝালকাঠি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম হৃদয় এর ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় ঝালকাঠি সদর থানায় অভিযোগ করলেও ১৫ দিনেও এ ঘটনার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনো আসামিকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে রাজনৈতিক সহকর্মী, এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।
উল্লেখ্য, ৫ মে দুপুরে, সরকারি একটি নির্মাণ প্রকল্পের পে-অর্ডার জমা দিতে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা সঙ্গে নিয়ে হৃদয় তার নিজ বাসা থেকে বের হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝালকাঠি পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন বাপ্পী ভিলার সামনে অতিক্রান্ত করার সময় হৃদয়ের উপর আকশ্মিক হামলা চালায় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। তাঁকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে করে তাৎক্ষণিকভাবে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে তার অবস্থা আশংকাজনক হলে প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেকিকেল কলেজে এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাানান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় হৃদয়ের বোন মারিয়া ইসলাম গত ১২ মে ঝালকাঠি থানায় একটি অভিযোগ (নং ৬১৫) দায়ের করেন। কিন্তু এতদিনেও পুলিশ কোনো সন্দেহভাজনকে শনাক্ত কিংবা গ্রেপ্তার করতে পারেনি। প্রশাসনের নিষিক্রিয়তা নিয়েও ইতোমধ্যে জনমনে প্রশ্ন ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাটি ছিল ‘হিট অ্যান্ড রান’ ধাঁচে পরিকল্পিত, যেখানে মাথায় আঘাত করে হামলাকারীরা দ্রæতো পালিয়ে যায়।
চিকিৎসকরা জানান, তাঁর মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধে, এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাথার দুই পাশের খুলি খুলে সেই রক্ত অপসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় আছেন এবং তাঁর স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আতিকুল ইসলাম হৃদয় ছিলেন শুধু একজন ছাত্রনেতা নন, বরং তিনি ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর একজন ফেলো এবং ঝালকাঠি ক্রীড়া সংস্থার সক্রিয় সদস্য। রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তাঁর সক্রিয়তা এলাকাবাসীর কাছে তাঁকে একজন প্রগতিশীল ও জনপ্রিয় তরুণ হিসেবে পরিচিত করেছে।
হৃদয়কে মারধর করে তার সাথে থাকা নগদ টাকা এবং গুরুত্বপ‚র্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। যা এই হামলাকে শুধু লুট নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিহিংসা হিসেবেও দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ছাত্রলীগ, আওয়ীমী লীগ ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠন থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং দোষীদের অবিলম্বে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। তারা মনে করছেন, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি হামলা যা দৃষ্টান্তম‚লকভাবে মোকাবিলা না করলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিাতির সৃষ্টি হতে পারে বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন তারা।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দেখছি। এই হামলার সাথে যে বা যারা জড়িত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।