জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
ডিএনসিসির তত্ত্বাবধানে ২৪টি দলের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৫০০ সদস্য নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন, এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস, সোর্স রিডাকশন এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
আগামীকাল সকাল ৯টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পরপরই ডিএনসিসির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হবে।
জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সকাল ৯টা থেকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে একটি বিশেষ স্টল স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়, এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্তকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উপকরণ প্রদর্শন করা হবে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫, বিশেষ করে সংসদ ভবন ও এর আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ সোর্স রিডাকশন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং লার্ভানিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, অঞ্চল-৫-এর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এবং চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সকালেই বিশেষ সোর্স রিডাকশন ও লার্ভানিধন অভিযান চালানো হবে।
কেন্দ্রীয় কার্যক্রমে সহায়তার জন্য অঞ্চল-২, ৩ ও ৪ থেকে নির্ধারিত সংখ্যক সুপারভাইজার ও মশক কর্মীকে অঞ্চল-৫ এবং সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিশ্চিত করবেন, নির্ধারিত জনবল যথাসময়ে দায়িত্বস্থলে উপস্থিত থাকেন।
তবে কেন্দ্রীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কর্মীদের বাইরে অঞ্চল-২, ৩ ও ৪-এর অবশিষ্ট সুপারভাইজার ও মশক কর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করে বিশেষ সোর্স রিডাকশন ও লার্ভানিধন কার্যক্রম চালাবেন।
এ ছাড়া অঞ্চল-১, ৬, ৭, ৮ ও ৯-সহ ডিএনসিসির অন্য সব অঞ্চলেও জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এসব এলাকায় চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল এবং আগে শনাক্ত হওয়া হটস্পটগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিজ নিজ অঞ্চলের কার্যক্রমের সার্বিক তদারকি, সমন্বয় ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে জনবল মোতায়েন, কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং চিহ্নিত প্রজননস্থল ধ্বংসের বিষয়টি সরাসরি মনিটর করতে বলা হয়েছে।
এবারের কর্মসূচিতে শুধু মশক নিধনের পরিবর্তে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী লার্ভিসাইড প্রয়োগের মাধ্যমে সোর্স রিডাকশনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এ কেন্দ্রীয় ও বিশেষ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও সিটি কর্পোরেশনের সব অঞ্চলে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবসের কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চলবে।